৬৪ জেলায় ১২০০০ জনকে প্রশিক্ষণ সহ চাকরি দিবে যুব উন্নয়ন বোর্ড

jubo

বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী সাত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে দেশের ৬৪ জেলার যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র।

আঞ্চলিক মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্র সাভার থেকে ২০১০ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে কম্পিউটার গ্রাফিকস অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং কোর্সে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন লেমুনুজ্জামান। এ বছর তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বর্ষসেরা জাতীয় যুব পুরস্কার জিতেছেন।

প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নিজেই একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলেছেন। তাঁর মতে, এসব কোর্স কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেশ সহায়ক। চাকরির পেছনে না ছুটে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই স্বাবলম্বী হওয়া যায়। তিনি জানান, যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত নিজের উদ্যোগে প্রায় ৩০০ জনকে কম্পিউটারের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। স্বল্প শিক্ষিত বেকাররা এসব কোর্সের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে।

বেকার যুবকদের জন্য নিয়মিত এসব প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ২০১৬-১৭ সেশনের দ্বিতীয় ধাপে প্রশিক্ষণ পাবে ১১৭৭০ জন। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তৈরি পোশাক, মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, কম্পিউটার বেসিক, কম্পিউটার গ্রাফিকস অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউসওয়্যারিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং ও ইলেকট্রনিকস বিষয়ে। আবেদন করতে পারবেন ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীরা। মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

কোন কোর্সে কী যোগ্যতা

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ফাতেমা বেগম জানান, তৈরি পোশাক ট্রেডে সারা দেশের ৭০টি কেন্দ্রে ২৫ জন করে মোট ১৭৫০ জন প্রশিক্ষণ পাবে। তিন মাস মেয়াদি এ কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস। ছয় মাস মেয়াদি মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা এইচএসসি। ৩৭টি কেন্দ্রে ৩০ জন করে মোট প্রশিক্ষণ পাবে ১১০০ জন। ছয় মাস মেয়াদি কম্পিউটার বেসিক কোর্সেও আবেদনের যোগ্যতা এইচএসসি। ঢাকার খিলগাঁও কেন্দ্রে ২০ জন, যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র সাভারে ৪০ জন, আঞ্চলিক মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্র সাভারে ১৮০ জন এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট কেন্দ্রে ৬০ জন করে এবং অবশিষ্ট ৫৮ জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে ৪০ জন করে মোট ২৮৬০ জনকে দেওয়া হবে এ প্রশিক্ষণ। কম্পিউটার গ্রাফিকস অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং কোর্সের মেয়াদ ছয় মাস। এইচএসসি পাস হলেই আবেদন করা যাবে, লাগবে

কম্পিউটারে বেসিক প্রশিক্ষণ। ঢাকার খিলগাঁও কেন্দ্রে ২০ জন এবং সাভার, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট আঞ্চলিক মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রে ৩০ করে মোট ২০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউসওয়্যারিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং ও ইলেকট্রনিকস কোর্সে মোট ৫৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ে আঞ্চলিক মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্র সাভারে ৬০ এবং অবশিষ্ট ৬৩ জেলার প্রতি কেন্দ্রে ৩০ জন করে প্রশিক্ষণ পাবে। ছয় মাসের এসব কোর্সে অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই আবেদন করা যাবে।

আবেদন যেভাবে

আবেদন ফরম পাওয়া যাবে www.dyd.gov.bd ওয়েবসাইটে। এ ছাড়া প্রতি উপজেলার উপপরিচালক, কো-অর্ডিনেটর, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও বিনা মূল্যে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। নিজ হাতে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। পূরণ করার পর আবেদন ফরম নিজ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর কমিশনারের দেওয়া জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি এবং সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ ডিসেম্বর।

বাছাই প্রক্রিয়া

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আখতার আলী সরকার জানান, আবেদন জমা নেওয়ার পর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রার্থীর আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। সাক্ষাত্কার দেওয়া যাবে অধিদপ্তরের নিজ জেলা কার্যালয়ে। তৈরি পোশাক ও মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কোর্সের পরীক্ষা হবে ২৯ ডিসেম্বর। বেসিক কোর্স ও কম্পিউটার গ্রাফিকস অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং কোর্সের পরীক্ষা ২৭ ডিসেম্বর এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউসওয়্যারিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং ও ইলেকট্রনিকস কোর্সের পরীক্ষা হবে ২৮ ডিসেম্বর। মৌখিক পরীক্ষা ও ভর্তির সময় মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কোনো যুব সংগঠন মনোনীত ও নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কেন প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ঠিকঠাক বর্ণনা দিতে পারা নির্বাচনী পরীক্ষায় এগিয়ে রাখতে পারে বলে জানান মো. আখতার আলী সরকার।

নামমাত্র ফি, আছে আবাসন সুবিধা

ফাতেমা বেগম জানান, আগামী নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এসব প্রশিক্ষণের প্রায় সব খরচ বহন করবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রার্থীদের কাছ থেকে নামমাত্র প্রশিক্ষণ ফি নেওয়া হবে। তৈরি পোশাক কোর্সে ৫০ টাকা, মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কোর্সে ৫০০ টাকা, কম্পিউটার বেসিক কোর্সে ১০০০ টাকা এবং কম্পিউটার গ্রাফিকস অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং কোর্সে ২০০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউসওয়্যারিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং ও ইলেকট্রনিকস কোর্সে ফি নেওয়া হবে ৩০০ টাকা করে। আছে বিনা ভাড়ায় যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে থাকার সুযোগ। তবে খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ নিজে বহন করতে হবে।

চাকরি খুঁজব না, দেব

ময়মনসিংহ জেলা যুব উন্নয়নকেন্দ্রের উপপরিচালক কামরুজ্জামান মিয়া জানান, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো, দেশে বেকারত্বের হার কমিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। প্রশিক্ষণ দেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষকরা। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরই অনেকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অনেকের কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন।

আছে ঋণের সুবিধা

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেইন জানান, প্রশিক্ষণ কোর্সে হাতে-কলমে কাজ শেখানো হবে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নিজেরাই উদ্যোক্তা হতে পারে, তেমনি রয়েছে চাকরির সুযোগ। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অসচ্ছলদের জন্য আছে স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধাও। এক মাস বা কম সময়ের প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং তিন বা ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রার্থীরা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

যোগাযোগ

ভর্তি ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে হবে নিজ জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে। এ ছাড়া প্রতি উপজেলার উপপরিচালক, কো-অর্ডিনেটর, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার দপ্তরে যোগাযোগ করেও জানা যাবে দরকারি তথ্য।