সাপের শোকে সাপিনী কাতর! সাপের বিরহ দেখতে ভিড়

snack india

ভারতের শ্রীখণ্ডের কাঁসারি পাড়ার মাঠ। একদিন আগেই এই মাঠে একটি মৃত সাপকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। হঠাৎ দেখা যায়, মৃত সাপের ভস্মের উপর একই প্রজাতির একটি সাপ। মৃত সাপের প্রেমিকা ফিরে এসেছে?

ওদের যে প্রেম ছিল সেটা আর কে দেখেছে! কিন্তু একজনের মৃত্যুর পর উঠে এসেছে প্রেমের গল্প। সিনেমায় সাপেদের প্রেম দেখানো হলেও বিশেষজ্ঞরা বলেন সাপের মন নেই। তাই প্রেম কিংবা চিরদিনের সঙ্গী হয় না সাপেদের সংসারে। তবে শ্রীখণ্ডের মানুষের ওসবে মনে নেই। বিজ্ঞান নয় জিতল বিশ্বাস। বর্ধমান জেলার প্রত্যন্ত এলাকা শ্রীখণ্ডের বাসিন্দারা তাই দেখতে পেলেন বিরহী সাপের কষ্ট। শুনতে পেলেন সাপিনীর কান্না।

শ্রীখণ্ডের কাঁসারি পাড়ার মাঠ। একদিন আগেই এই মাঠে একটি মৃত সাপকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। বুধবার হঠাৎ দেখা যায়, মৃত সাপের ভস্মের উপর একটি একই প্রজাতির সাপ। সঙ্গে সঙ্গে রটে যায় রূপকথার গল্প। মৃত সাপের প্রেমিকা ফিরে এসেছে। পাহাড়া দিচ্ছে প্রেমিকের অস্থি। ভিড় জমাতে শুরু করে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারাও। মা-মনসার বাহনের জন্য চলে আসে বাটি ভরা দুধ। লাল পেড়ে সাদা শাড়ি। ফুল-মালা। পুরোহিত।

পেশায় কৃষিজীবী শিবশঙ্কর কবিরাজ বাড়ির খড়ের পালুইয়ে একটি বিষধর খরিস সাপ দেখতে পান। প্রায় ৩ ফুট লম্বা সাপটিকে তৎক্ষণাৎ মেরে ফেলেন তিনি। বাড়ির কিছুটা দূরে কাঁসারি পাড়ার মাঠে সাপটিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তার পরের দিনই এক অদ্ভুত দৃশ্য গ্রামবাসীদের চোখে পড়ে। মৃত সাপের ছাই ভস্ম নিয়ে মাখামাখি করছে একই প্রজাতির অন্য একটি সাপ। কখনও ফণা তুলছে, আবার কখনও মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে। যেন প্রিয় জনের মৃত্যুশোকে পাগল।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, যে সাপটি মারা গেছে সে ছিল পুরুষ সাপ। তারই সঙ্গিনী মৃত সাপটির শোকে এরকম করছে। এই সাপটি কখনও পাশের একটি গর্তে ঢুকে পড়ছে আবার কখনও বেরিয়ে এসে ওই স্থানে বসে থাকছে।

গ্রামবাসীরা বাঁশ দিয়ে স্থানটিকে ঘিরে রেখেছে। দূরদূরান্তের গ্রাম থেকে শ’য়ে শ’য়ে মানুষ আসছেন এই দৃশ্য দেখার জন্য। ভক্তিভরে পুজো দিচ্ছেন। তবে সর্প বিশেষজ্ঞ দেবব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সাপের গা থেকে একধরনের রস নির্গত হয়। সম-প্রজাতির সাপেদের সেটা আকর্ষণ করে। তাই এই সাপটির এরূপ আচরণ। স্থানীয় মানুষদের সবটাই ভ্রান্তধারণা।