বিসিএসে চান্স পেতে শেষ সময়টা যেভাবে কাজে লাগাবেন

bcs-tafikul

আর মাত্র কটা দিন। ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। শেষ সময়টাকে কিভাবে কাজে লাগালে বিসিএসে চান্স পাওয়া সম্ভব তার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক সফল যোদ্ধা।

তাফিকুল আলম : সময়টাকে আটকানো যাচ্ছে না। টেনশন। সিলেবাস শেষ হবে তো! প্রশ্ন কেমন হয়! জানি রুটিন করে পড়া কঠিন। তবু বলব, এই স্বল্পসময়ের জন্য একটি পরিকল্পনা করুন। নিজের দুর্বলতা ও সবলতা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা করুন। পরীক্ষা ভীতি আপনার সক্রিয়তাকে বিনষ্ট করে দেবে। বিসিএস পরীক্ষার্থীর মানসিকতা থাকতে হবে চরম দুর্যোগেও হাল না ছাড়া নাবিকের মতো। বিসিএসের মন্ত্র অনেকটা প্রেমের মন্ত্রের মতো- ‘লেগে থাকতে হয় ’।

যারা ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে এই স্বল্পসময়ে এত বড় সিলেবাসের কূল-কিনারা পাওয়া সম্ভব না, তাদের বলব আপনারা হাল না ছেড়ে একটা কাজ করুন- পরীক্ষার আগে অন্তত ‘ডাইজেস্ট’ শেষ করে হলেও পরীক্ষা দিতে যান। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রায় ২০ হাজার পরীক্ষার্থী চান্স পায়। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। আপনার ফার্স্ট হওয়ার দরকার নেই, আপনাকে শুধু চান্স পেতে হবে।

পরীক্ষার হলের ২ ঘণ্টা সময় আপনার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কলম ও প্রবেশপত্র নিয়ে আপনার সিটে চুপচাপ বসে মনটাকে স্থির করুন। সহজ বিষয়গুলো আগে উত্তর দেবেন অবশ্যই। সাধারণ জ্ঞান, বাংলা এগুলো দিয়ে শুরু করুন। আপনি অঙ্কে যত ভালোই হোন, আমার পরামর্শ হবে অঙ্ক সবার শেষে উত্তর করবেন। প্রশ্ন পেয়ে ঘাবরে যাওয়ার কিছু নেই আবার খুশি হওয়ারও কিছু নেই। কারণ আপনি জানেন না কত নম্বর পেলে চান্স পাওয়া যাবে। পরীক্ষার হলে আপনাকে জাস্ট সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। ৩৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আমি সাধারণ জ্ঞান দিয়ে উত্তর করা শুরু করি।
প্রথম ১৩টি প্রশ্নের ১টিও কমন পরেনি আমার। তারপরও স্থির ছিলাম কারণ আমি জানতাম আমার বন্ধুরাও এগুলো খুব বেশি পারবে না।

পরীক্ষার আগেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার কাট মার্কস সম্পর্কে আন্দাজ করা অসম্ভব। পরীক্ষার হলে আশপাশ থেকে পাওয়া দু’একটি উত্তর আপনাকে সাহায্য করতে পারে একথা সত্য, কিন্তু একথাও মাথায় রাখবেন যে দু’একটি ভুল উত্তর আপনাকে শেষ করে দিতে পারে।
বাংলা থেকে ৩৫ নম্বর থাকবে। ব্যাকরণ ১৫ নম্বর এবং সাহিত্য ২০ নম্বর।

সিলেবাসে ব্যাকরণের যেসব অংশের উল্লেখ আছে সেগুলো শেষ করুণ। সাহিত্য অংশের ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হল বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করার চেষ্টা করুন। আর অন্য সাহিত্যিকদের কেবল বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো আগে শিখুন। ব্যকরণের কোনো অংশ যদি আপনার কাছে কঠিন বা ঝামেলা মনে হয় তাহলে আপাতত সেই অধ্যায়টা বাদ দিয়েই প্রস্তুতি নিন অথবা সেই চ্যাপ্টার থেকে বারবার পরীক্ষায় আসে এমন অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন শিখে ফেলুন।

ইংরেজিতে একেকজনের জ্ঞান একেক পর্যায়ের। সিলেবাসে ল্যাংগুয়েজ ও সাহিত্যের মানবণ্টন যথাক্রমে ২০ এবং ১৫। সাহিত্য অংশের নামগুলো মনেই থাকতে চায় না। কিন্তু মনে রাখতেই হবে। সবচেয়ে ভালো কৌশল হল আপনি প্রতিদিন এগুলো পড়তে থাকুন আর রিভিশন দিতে থাকুন। তাহলে আপনি চাপ অনুভব করবেন না। আর ল্যাংগুয়েজ অংশে যে সিলেবাস দেয়া আছে সে অনুযায়ী কোনো বই কিনে অনুশীলন করুন। ভোকাবুলারিতে অনেকে বেশ সবল আবার অনেকে বেশ দুর্বল। আপনার বই খুলে আগের বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলুন, দেখবেন ভালোই কমন পড়বে।

গণিত অনেকের কাছে ভয়ংকর একটি নাম। অনেকের কাছে আবার তুরুপের তাস। সিলেবাস ধরে প্রতিদিন চেষ্টা করে যান। কোনো অধ্যায় বেশি কঠিন মনে হলে আপাতত সে অধ্যায় বাদ দিন। প্রতিদিন অবশ্যই আপনাকে গণিত অনুশীলন করতে হবে। গণিত না পারার বড় কারণ গণিতকে ভয় পাওয়া। গণিত এক ধরনের খেলা, আপনি খেলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ সংখ্যাটি শেষ করে ফেলুন। তারপর অন্যান্য বই পড়ুন আর বেশি বেশি রিভিশন দিন। যেগুলো মনে থাকে না সেগুলোর নিচে লাল কালির দাগ দিয়ে রাখুন, মনে রাখার কৌশল বের করুন।

সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রেও প্রথমে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ সংখ্যাটি শেষ করুন। তারপর অন্য বই পড়ুন। প্রতিদিন অবশ্যই পত্রিকা পড়তে হবে।

ভূগোল ও পরিবেশ এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অংশের জন্য কোনো বই ফলো করার পাশাপাশি মাধ্যমিক শ্রেণীর বইগুলো পড়তে পারেন। কোনো কোচিং সেন্টারেও মডেল টেস্ট দিতে পারেন।

সবশেষে বলব, শেষ দিন পর্যন্ত লেগে থাকুন। বিসিএস চরম কঠিন কোনো পরীক্ষা নয়, কিন্তু বিসিএস অবশ্যই চরম অনিশ্চয়তার একটি পরীক্ষা। যিনি বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হন তিনিও শিওর থাকেন না আদৌ তিনি কোনো ক্যাডার পাবেন কিনা। রবীন্দ্রনাথের মতো করে বলতে চাই- ‘মনেরে আজ কহ যে, ভাল মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’

সবার জন্য শুভ রইলো শুভকামনা।

মো. লেখক : তাফিকুল আলম
(৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত)
[কার্টেসি : দৈনিক যুগান্তর]