প্রিলিঃ উত্তীর্ণদের বিপিএসসি ফরম পূরণ ও জমাদান

36 bcs

দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক তিন পর্বের ধারাবাহিক পরীক্ষার প্রথম পর্বের সফলতার জন্য আপনাদের আরেকবার অভিনন্দন। আপনারা নিশ্চয়ই “২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৮ মার্চের মধ্যে বিপিএসসি ফরম-২ পূরণ” করার বিষয়ে অবগত আছেন। না থাকলেও সমস্যা নাই। এখন তো জানলেন। আজ পিএসসি ওয়েবসাইটে ফরমটি আপলোড করা হয়েছে। ফরমটি ডাউনলোড করে যথাযথভাবে পূরণ করে নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিবেন। মনে রাখবেন, গতবার এই ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ ও জমা না দেওয়ায় ৪১৯ জনকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি।

ফরমটি ডাউনলোড করার লিংক::

www.bpsc.gov.bd/upload/docs/bcs_general_0217105945.pdf

আসুন, এবার পূরণ করা শুরু করিঃ

# তিন কপি রঙ্গিন ছবির (যেটা আগে দিয়েছেন। আরে ভাউ, নতুন ছবির কি দরকার? আপনি কি বিয়ে করার বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন?) পিছনে নাম লিখুন ও সত্যায়িত করুন। সেখান থেকে এক কপি আঠা দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে লাগিয়ে উপরে আবার সত্যায়িত করুন। বাকি যে দুই কপি থাকলো তা জায়গামত স্ট্যাপল করুন।

# রেজিঃ নম্বর শুদ্ধভাবে ইংরেজীতে লিখুন।

১) এসএসসি সনদ অনুযায়ী বাংলায় আপনার নাম লিখুন।

২) এসএসসি সনদ অনুযায়ী বাংলায় আপনার জন্ম তারিখ লিখুন। যেমনঃ ২৫ মে, ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।

৩) এসএসসি সনদ অনুযায়ী বাংলায় আপনার পিতা ও মাতার নাম লিখুন। উনারা ইন্তেকাল বা কোন ডিগ্রি অর্জন করলেও তা উল্লেখ করবেন না। একদম এসএসসি সনদ অনুযায়ী লিখবেন।

৪) বিপিএসসি ফরম-১ পূরন করার সময় যে স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছেন সেটাই লিখুন (পরিবর্তন করতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর দরখাস্ত লিখে যাবতীয় প্রমাণপত্রসহ পিএসসির প্রধান কার্যালয়, ঢাকায় যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, স্থায়ী ঠিকানায় আপনার বাবা বা মার নামে কেনা/পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত এক ছটাক জমি হলেও থাকতে হবে)। আর বর্তমান ঠিকানা যা দিতে চান তাই লিখুন। আগের বর্তমান ঠিকানার সাথে মিল না থাকলেও চলবে।

৫) উচ্চতা ও ওজন দেয়ার সময় সার্কুলারের ৩০ নম্বর ক্রমিকটা একবার পড়ে নিয়ে সেসব তথ্য মাথায় রেখে লিখুন। যাতে এর কম না হয়। এবার বুকের মাপ লিখুন। জানা না থাকলে ছেলেরা ৩০ বা ৩১ বা ৩২ সে.মি. লিখতে পারেন। মেয়েদেরটা জানি না, অভিজ্ঞতা নাই।

৬) নাগরিকত্বঃ জন্মসূত্রে বাংলাদেশী।

৭) হ্যাঁ/না লিখুন।

৮) (ক) হ্যাঁ/না লিখুন। (খ) তে প্রযোজ্য হলে লিখুন। না হলে ‘প্রযোজ্য নহে’ লিখুন।

৯) হ্যাঁ/না লিখুন।

১০) হ্যাঁ/না লিখুন।

১১) বিপিএসসি ফরম-১ এ যে কেন্দ্র উল্লেখ করেছেন সেটা লিখুন।

১২) পূর্বে উল্লেখ না করে থাকলে “প্রযোজ্য নহে” লিখুন (যদি এখন চাকরি করেনও। তাতে ফায়দা হবে)। যদি উল্লেখ করেন আর তা যদি সরকারি চাকরী হয় তাহলে সংস্থা, পদের নাম ও বেতন স্কেল লিখুন। তবে এখন NOC (ছাড়পত্র) লাগবে না।

১৩) চাকরি করলে বসের নিকট শুনে নিন আপনার বেতন কোন খাত (রাজস্ব/উন্নয়ন) থেকে হয়? সে অনুযায়ী হ্যাঁ/না লিখুন।

১৪) যদি নিয়োজিত থাকেন তাহলে তথ্য দিন। না হলে “প্রযোজ্য নহে” লিখুন।

১৫) প্রথম কলামঃ

আপনার অর্জিত ডিগ্রীর নাম লিখুন। যেমন: এসএসসি> এইচএসসি >…।

দ্বিতীয় কলামঃ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লিখুন। দশমিনা স্কুল, বরিশাল বোর্ড। রংপুর কলেজ, রংপুর বোর্ড। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এভাবে লিখুন।

তৃতীয় কলামঃ

জিপিএ সিস্টেমে হলে জিপিএ লিখুন। বিভাগ সিস্টেমে হলে বিভাগ লিখুন (মনে রাখবেন এসএসসি, এইচএসসিতে প্রথম বিভাগ বললেও অনার্স, মাস্টার্সে কিন্তু প্রথম শ্রেনী বলা হয়)। অনার্স মাস্টার্সের ক্ষেত্রে সেশনজটের কারণে এক সালের পরীক্ষা অন্য সালে অনুষ্ঠিত হয়। তাই লিখুন এভাবে…পরীক্ষাঃ ২০০৭, অনুষ্ঠিতঃ ২০০৮।

চতুর্থ কলামঃ

বিভাগ/শ্রেনী পদ্ধতিতে রেজাল্ট হলে আপনার মার্কসীট দেখে % লিখুন। আর যারা জিপিএ সিস্টেমে তারা এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ কে ১৬ গুন করে % লিখুন। এইচএসসিতেও তাই করুন। অনার্স এবং মাস্টার্সে প্রাপ্ত জিপিএ কে ২০ দিয়ে গুন করে যার যার ঘরে লিখুন।

পঞ্চম কলামঃ

এসএসসি এবং এইচএসসি এর ঘর ফাকা থাকবে। যে বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তা যার যার ঘরে লিখুন। যেমনঃ দর্শন।

১৬) দ্বিতীয় কলামঃ

বিপিএসসি ফরম-১ এ যে চয়েজ দিয়েছেন তার অনুরুপ চয়েজ গুলো পর্যায়ক্রমে লিখুন। যেমনঃ বিসিএস (প্রশাসন)।

তৃতীয় কলামঃ

আপনি যদি প্রফেশনাল কোন ক্যাডার দিয়ে থাকেন তাহলে শুধু সেই ক্যাডারের জন্য যে পদ বর্ণিত আছে এই ঘরে সেই পদের নাম লিখতে হবে। যেমনঃ বিসিএস (শিক্ষা) চয়েজ দিলে এই ঘরে ‘প্রভাষক’ লিখতে হবে। জেনারেল ক্যাডারদের জন্য কিছু লেখা লাগবে না, না, না।

চতুর্থ কলামঃ

ক্যাডার কোড লিখুন। যেমনঃ বিসিএস (প্রশাসন) এর ক্যাডার কোড ১১০। একইভাবে ষষ্ট, সপ্তম ও অষ্টম কলাম পূরণ করুন (যদি লাগে)।

১৭) আপনার যদি টেকনিক্যাল কোন ক্যাডার দেয়ার থাকে তাহলে এ ঘরের প্রথম কলামে আপনার পঠিত বিষয়ের নাম এবং দ্বিতীয় কলামে ঐ বিষয়ের কোড লিখতে হবে। যেমনঃ দর্শন-২১১। (আপনার এডমিট কার্ড লক্ষ্য করুন)।

১৮) প্রার্থীর স্বাক্ষর (এডমিট কার্ডে যেভাবে আছে) দিন। তারিখ লিখুন।

# প্রার্থীর দায়িত্বে পূরণীয় যে ছয়টি ঠিকানা লেখার কথা বলা হয়েছে তা লিখুন। তবে তা যেন ক্রমিক ৪ এর বর্তমান ঠিকানার অনুরুপ হয়।

কাগজপত্র ও জমাদান

১) ফরমের এক, দুই, তিন ও ছয়টা ঠিকানা লেখার পাতাগুলো।
২) শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটসমূহের সত্যায়িত কপি। সার্টিফিকেট না থাকলে মার্কশীটসমূহের সত্যায়িত কপি।
৩) সার্টিফিকেট, মার্কশীট বা টেস্টিমোনিয়ালে চার বছর ডিগ্রির কথা উল্লেখ না থাকলে সেটার প্রত্যয়নপত্রের সত্যায়িত কপি।
৪) Applicant’s copy (রঙ্গিন দিলে ভালো) এর সত্যায়িত কপি।

# প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনেকের আরো কিছু কাগজপত্র দেওয়া লাগতে পারে। ভালো করে নির্দেশনা পড়ুন। আপনার যা যা প্রযোজ্য সেগুলোই দিন।

# সবগুলো কাগজপত্রে নিজের রেজিঃ নম্বর লিখুন। তারপর স্ট্যাপল করে A4 সাইজের খামে ভরে খামের মুখখোলা অবস্থায় ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৮ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন (বন্ধের দিন ছাড়া) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ০৪টা পর্যন্ত নিজ নিজ কেন্দ্রের পিএসসি কার্যালয়ে জমা দিন।