ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেও বেকার

bakar

বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বেকার হয়ে ঘরে বসে আছেন। অনেক জায়গায় পরীক্ষা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না মেলায় অনেকের মধ্যেই হতাশা কাজ করছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাশ করেও দেখা যায় অনেকে ৩/৪ বছর ধরে বেকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছর আগে মাস্টার্স শেষ করে বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছেন আনোয়ার হোসেন মাহি। তিনি বলছিলেন, “চাকরির বাজার এখন অনেক কঠিন। পরীক্ষা দিয়ে যখন দেখি আমার হলোনা তখন অনেক হতাশ হয়ে পড়ি।” সমাজবিজ্ঞানে পাশ করা মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি সবারই বিসিএস’র প্রতি একটা অন্যরকম প্যাশন থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে এত বেশি দীর্ঘসূত্রিতা আমাদের অনেক সময় দিতে হচ্ছে। ৩৪তম বিসিএস শুরু থেকে গেজেট হওয়া পর্যন্ত সময় লেগেছে আড়াই বছর।”

ভূগোলের ছাত্র হাবিবুর রহমান বলেন, “কলা অনুষদের যারা পড়াশোনা করেছি তাদের সরকারি চাকরি ছাড়া কোনও উপায় নাই। আমাদের সঙ্গে যারা বিবিএ এমবিএ করেছে তারা সবাই বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছে। কিন্তু আমরা বসে আছি।”

শাহ্‌বাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রতিদিন পড়াশোনা করেন চাকরি-প্রত্যাশীরা। দেশের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এরা পাশ করেছেন। সকাল আটটার আগে লাইন ধরে না দাঁড়ালে ভেতরে জায়গা পাওয়াটাই সেখানে কঠিন। লাইনে দাঁড়িয়ে এক তরুণী উম্মে তাওহিদা বলছিলেন, দেড় বছর ধরে তিনি চাকরি খুঁজছেন। “যতদিন পর্যন্ত চাকরি না হবে পরীক্ষাতো দিতেই হবে। সরকারির জন্য ট্রাই করছি বেশি সময়, পাশাপাশি বেসরকারি চাকরির জন্যও পরীক্ষা দিচ্ছি।”

২০১১ সালে মাস্টার্স শেষ করে হন্যে হয়ে সরকারি-বেসরকারি চাকরি খুঁজছেন দেবাশীষ বিশ্বাস। নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “সরকারি চাকরির জন্য একশোর মতো পরীক্ষা দিছি, প্রাইভেট চাকরিও দেড়শর মতো হয়ে গেছে। প্রাইভেট চাকরিতে রিটেন টেস্টেও টিকে যাচ্ছি। এর পর একটা পর্যায়ে এসে লোকে বলে, এখানে রেফারেন্স দেয়ার মতো কেউ কি আছে এখানে? পরিচিত না থাকলে আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রদের জন্য চাকরি বাকরি পাওয়াটা ডিফিকাল্ট হয়ে গেছে।”

সরকারি কর্ম কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ৩৭তম বিসিএস এর জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার। বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যাই সরকারি চাকরির প্রতি আকর্ষণ এবং একই সাথে বেকারত্বের চিত্র তুলে ধরে। পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, “যে কোনও দেশে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে নিয়োগের মাধ্যমেই কিন্তু বেকারত্বের সমাধান হবে। সরকারের যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ আছে তাতেই সবাই নিয়োগ পাবেন তা নয়”।

তিনি বলেন, ২৭টি ক্যাডারে ৭৯ ক্যাটাগরির লোক নিয়োগ করা হয়। এটি সময় সাপেক্ষ কাজ। তবে এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস এর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা তারা কাজ করছেন।

এদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনেকেও সরকারি চাকরি অপেক্ষায় বসে থাকতে চান না। কিন্তু গবেষকরা দেখছেন, বেসরকারি খাতেও ইদানীং কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে।পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে ২ লাখ ৫৫ হাজার গ্র্যাজুয়েট বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বেকার।

কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ব নিয়ে কাজ করছেন বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান। তিনি বলেন, “দেশে বেকারত্বের হার বিশেষত শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে একটু বেড়ে যাচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। এটা এখনো আমি বলবো না যে উদ্বেগজনক। কিন্তু ভবিষ্যতে উদ্বেগজনক অবস্থায় চলে যেতে পারে। কাজে আমাদের দ্রুত একটু এদিকে মনোযোগ দেয়া দরকার।”

বেকারত্বের পেছনে বাংলাদেশে মানসম্মত শিক্ষার অভাব একটি বড় কারণ উল্লেখ করে মিসেস রহমান বলেন, ভাল চাকরির আশা করে শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা যে সময়টা নষ্ট করছে এটি দেশের শ্রমশক্তির বড় অপচয়।