কোন দেশের কাছে কত আগ্নেয়াস্ত্র আছে?

pistol

মানবসভ্যতায় ইতিহাস পাল্টে দেওয়া এক আবিষ্কারের নাম ‘বন্দুক’। যুগে যুগে কত বিজয়ীর ইতিহাস লেখা হয়েছে এই আগ্নেয়াস্ত্রের হাত ধরে। সপ্তদশ দশকের শুরু থেকে এখন পর্যন্তও পৃথিবীর মানচিত্রে ক্ষমতার বিন্যাস হয় আগ্নেয়াস্ত্র কেন্দ্রিক।

আগ্নেয়াস্ত্রের ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছর আগেকার হলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই মারণাস্ত্রের ব্যাপক প্রয়োগ দেখেছে বিশ্ববাসী। কখনো নিরাপত্তা, কখনো শত্রুকে খতম করতে মানুষ তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও প্রাযুক্তিক জ্ঞানকে যেভাবে কাজে লাগিয়েছে তা দেখলে অবাক হতে হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বে এক লাখেরও বেশি ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র আবিষ্কৃত ও ব্যবহৃত হয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্র যে শুধু সেনাবাহিনীর কাছে থাকবে, এমনটা নয়৷ বিশ্বের দেশে দেশেই বাসিন্দারা আত্মরক্ষার জন্যও সঙ্গে বন্দুক রাখেন৷ অবসরপ্রাপ্ত  মার্কিন জেনারেল জন. কে. পিরলো জানান, সাধারণত কোনো দেশের জনগণের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের হার অনুযায়ী দেশটির মোট আগ্নেয়াস্ত্রের পরিমাণ নির্ভর করে। সেই হিসাব অনুযায়ী সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে জানা গেছে, কোন দেশের কাছে কত আগ্নেয়াস্ত্র আছে।

গোটা দুনিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র মজুতের শতকরা হার বিচারে যুক্তেরাষ্ট্রের ধারেকাছে নেই কেউ। কারণ সেই দেশের প্রতি ১০০ জনে আগ্নেয়াস্ত্র আছে ৮৮.৮০ জনের কাছে৷ এ ছাড়া বিশ্বে অস্ত্র মজুদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষস্থানে।

আগ্নেয়াস্ত্র মজুদের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে ইয়েমেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের শতকরা ৫৪.৮০ জন বাসিন্দার কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ আছে৷

তৃতীয় স্থানে থাকা শান্তির দেশ সুইজারল্যান্ডের ৪৫.৭ শতাংশ বাসিন্দার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে৷

তালিকায় এর পরের স্থানেই আছে ফিনল্যান্ড। দেশটির শতকরা ৪৫.৩০ জন বাসিন্দা বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখেন।

জনপ্রতি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের হারে পিছিয়ে নেই সার্বিয়াও। দেশটিতে ৩৭.৮ শতাংশ বাসিন্দার কাছে বন্দুক থাকে।

তালিকায় এর পরের স্থান দুটি সাইপ্রাস ও সৌদি আরবের। সাইপ্রাসে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩৬.৪০ জন এবং সৌদি আরবে শতকরা ৩৫ জনের কাছে বন্দুক থাকে।

অস্ত্র মজুদের তালিকায় এর পরের দেশগুলো হচ্ছে ইরাক, উরুগুয়ে ও সুইডেন। দেশগুলোতে যথাক্রমে ৩৪.২০, ৩১.৮০ এবং ৩১.৬০ শতাংশ বাসিন্দার কাছে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।