এসএসসি পরীক্ষায় থাকছে না ৪ বিষয়

nahid_minister_education

ঢাকা: সময় ও শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে এসএসসি পর্যায়ের কয়েকটি বিষয় পাবলিক পরীক্ষায় অন্তর্ভূক্ত না করে বিদ্যালয়েই ধারাবাহিক মূল্যায়নের সুপারিশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। একইসঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরির সুপারিশ দিয়েছেন তারা।

মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত কর্মশালার সুপারিশমালা তুলে ধরে সোমবার (২৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, চারু ও কারুকলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা- এই বিষয়গুলো কবে নাগাদ বিদ্যালয়ে মূল্যায়ন শুরু হবে তা আরও পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

পরীক্ষার এমসিকিউ এবং সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরির জন্য একটি ‘আইটেম ব্যাংক’ করারও সুপারিশ এসেছে বলে জানান নাহিদ।

শিক্ষা বোর্ড জানায়, বর্তমানে এসএসসিতে শিক্ষার্থীদের ১১টি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।  মন্ত্রী বলেন, আমরা এই বিষয়গুলোর গুরুত্ব কমাচ্ছি না, বরং সময় কমে আসবে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষাবিদদের করা সুপারিশমালা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উৎসাহিত করার জন্য তা কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি’র অন্তর্ভূক্ত করা যায়। এজন্য বছরের একদিনকে বই পড়া দিবস হিসেবে পালন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

শিক্ষকদের পাঠদানের সহায়তা করার জন্য উপযুক্ত ‘টিচার্চ গাইড’ যথাসময়ে প্রণয়ন ও মানোন্নয়ন করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন প্রণয়নে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ‘আইটেম ব্যাংক’ প্রণয়নে একটি ধারণাপত্র প্রণয়ন করে ‘বিএডু’ (বাংলাদেশ এক্সামিনেশন ডেভেলপমেন্ট ইউনিট) অবিলম্বে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

সুপারিশ অনুযায়ী, সব শিক্ষককে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে আবশ্যিকভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। ভালো শিক্ষক তিনি পড়াবেন, প্রশ্ন তৈরি করবেন এবং মূল্যায়ন করবেন; তা না হলে পুরো কার্যক্রম পরিপূর্ণ হয় না।

পরীক্ষা স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন
বাংলাদেশে পরীক্ষা পদ্ধতি বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে স্কোর’র পরিবর্তে ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজ স্কোর’ ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করা অপরিহার্য বলে মতামত দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবাল।

তবে বিষয়টি নতুন বিধায় এটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করেন মন্ত্রী।  পরীক্ষা স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের জন্য ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ‘বিএডু’ একটি পরীক্ষামূলক ফলাফল তৈরি করবে।  বিষয়গুলো নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সবার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

“প্রিয় অসুখ” -তাহসান এর নতুন গান দেখুন ভিডিও …

পাঠ্যবই হবে সুখপাঠ্য
সুপারিশ অনুযায়ী, নবম-দশম শ্রেণির নির্বাচিত কয়েকটি পাঠ্যবই পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সজহবোধ্য করা হবে। এ উদ্দেশ্যে দেশের শিক্ষাবিদ ও লেখকদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল তৈরি করা হবে।

নবম শ্রেণির বই পরিমার্জনের জন্য একটি ‘টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করতে হবে, যাতে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির আগেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো নিশ্চিত হয়।

শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেট অপরিহার্য উল্লেখ করে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন শিক্ষাবিদরা। এসব সুপারিশ নিয়ে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, পাঠ্যবইয়ের কারণে আমরা আটকে যাই। দুর্বোধ্য, অস্পস্ট বহু রকম জিনিস, বানান ভুল থেকে যায়। বইগুলো সব সময় আকর্ষণীয় হয় না।

জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বাড়া নিয়ে ঢালাওভাবে সবার সমালোচনা নিয়ে ড. জাফর ইকবাল বলেন, ডাটা এনালাইজ করতে পারলে আসলে জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য কিনা, তা জানতে পারবো। এজন্য আমরা একটা পরীক্ষা স্ট্যান্ডার্ডাইজ করতে পারি।

পরীক্ষা ও বইয়ের বোঝা কমবে কিনা, বইগুলো আকর্ষণীয় করা হবে কিনা, কারিকুলাম সংস্কারের পর অভিভাবক ও শিক্ষকরা তৈরি কিনা- এ বিষয়গুলো কক্সবাজারের আলোচনায় উঠে আসে বলে জানান সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।

শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে শিক্ষাবিদদের সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ।