অবশেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে

primary education

আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঝুলে থাকা সব রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে এসব শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এসব পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে এখন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলার সঙ্গে জড়িতরা যেন নিয়োগ পান সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি(নিয়োগ, পদোন্নতি, শৃঙ্খলা ও কল্যাণ) নীতিমালা-২০০৯ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১০ সালের ২১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত সভায় জানানো হয়, বিজ্ঞপ্তির ৩ নম্বর শর্ত ছিল- প্রচলিত কোটানীতি অনুসরণ করে মেধাক্রমানুসারে (উপজেলা/থানাওয়ারি) সহকারী শিক্ষকের বিদ্যমান শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যেটা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে। বিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে নিরুপিত সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে বা পরবর্তীতে কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য তালিকা থেকে মেধাক্রম ও সংশ্লিষ্ট উপজেলার অধিবাসী হওয়ার ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের জন্য ৪২ হাজার ৬১১ জনের একটি প্যানেল প্রস্তুত করা হয়। উক্ত প্যানেল থেকে এর মধ্যে ১০ হাজার ৫১৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২১ মার্চ রেজিস্টার্ড শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২.৫ সংশোধন করে বলা হয়, ‘মৃত্যু/বরখাস্ত/পদত্যাগ/অবসরজনিত বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসে রাখা জেলা নিয়োগ কমিটি নির্বাচিত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা থেকে মেধাক্রম এবং প্রথমত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী অধিবাসী হওয়ার ভিত্তিতে এসএমসি (স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি) ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ দেবে। মেধাক্রম তালিকার মেয়াদ তালিকা প্রকাশের তারিখ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’

সচিবালয়ে ওই সভায় আলোচনা হয়- উপজেলা কোটার পরিবর্তে নীতিমালার ২.৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন (৮৭৫৮/২০১২) দায়ের করা হয়। রিটে সরকারের বিপক্ষে রায় গেলে সরকার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল (৩১৬৫/২০১৫) করে। গত বছরের ৭ মে আপিলটি খারিজ হয়। সরকার পক্ষ আপিলে হেরে যাওয়ায় সিভিল রিভিউ পিটিশন (২৫০/২০১৫) দায়ের করে এবং চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে যায়।

পরে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয় গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালত রিট পিটিশন ও রিভিউ পিটিশন খারিজ করে নীতিমালা তৈরি করে নিয়োগ দিতে বলায় নিয়োগের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়।

সভায় জানানো হয়- সরকারের রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রয়েছে। এমতাবস্থায় রিট পিটিশনের (৮৭৫৮/২০১২) আবেদনকারীসহ সব রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শূন্যপদে আদালতের নির্দেশের আলোকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগদানের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মামলা ও রিটের রায় সরকারের বিপক্ষে আসায় আর আপিল না করে শূন্যপদে নিয়োগের জন্য উদ্যোগ নিতে পারবে বলে জানানো হয়। সভায় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সব রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১০’ এ ৪২ হাজার ৬১১ জনের মেধাক্রম তালিকা ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের ঘোষণা দেওয়ার পর সেই প্যানেল থেকে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।

নিয়োগের দাবিতে নওগাঁ, যশোর, পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার প্যানেলের প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক প্যানেল শিক্ষক ঐক্যজোটের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম শনিবার বলেন, ৩০১টি রিটের ১০ হাজার প্রার্থীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ১২৭টি রিটের ৫ হাজার প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হয়। আরও ৬০টি রিটে প্রায় ২ হাজ‍ার প্রার্থীর তালিকা আদালত থেকে পেলে পাঠানো হবে।

নিয়ম মাফিক পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েও দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় এসব প্রার্থী চরম বিড়ম্বনার মধ্যে রয়েছেন জানিয়ে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রবিউল।